সিলেটি ভাষা /শুদ্ধ ভাষা/চট্রগ্রামের ভাষা ওরফে চিটাগাইংগা ভাষা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা | জুয়েল আহমদ ।

আসসালামু আলাইকুম, সবাই কেমন আছেন? 
আশা করি সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও ভালো আছি৷। আজকে আমি লিখবো সিলেটি/শুদ্ধভাষা/চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা। আমি সিলেটি পোয়া, আমার ভাষা সিলেটি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই আপনি যান বাংলা ভাষাভাষী কারো সাথে কথা বলে দেখুন, আপনি যতই শুদ্ধ করে বলার চেষ্টা করুন সে জিজ্ঞেস করবে আপনি কি সিলেটি? 
কারণ, আপনার টোন,আমাদের কথা বলার ধরণ, সবকিছুই আলাদা। আমাদের কথায় শ্রদ্ধা আছে, মায়া আছে, মহব্বত আছে। আমি আফনারে ভালা ফাই; এই কথায় আমি আপনাকে ভালবাসি'র চেয়ে হাজারগুন বেশি মহব্বত জড়িয়ে থাকে। আমাদের ভাষাই আমাদের পরিচয় তুলে ধরে। আমি সিলেটি, আমার ভাষা সিলেটি, আমি গর্বিত।


আজকে আমার আর্টিকেল এর মূল বিষয় হলো,(চট্রগ্রাম) অথ্যার্থ চিটাগাং এর আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে লিখা, আসলে আমি এতটা চট্রগ্রামের ভাষা জানিনা,তবে আমার একজন প্রিয় ছাত্রী আমাকে শিখাইছিলো, তার কথার ধারনা থেকেই আমার লেখা। 

প্রথমেই বলে রাখি আমি এতো এক্সপার্ট নই চট্রগ্রামের ভাষার উপর তবে যা মনে আছে তা লিখছি, এতে ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন । 

সিলেটি ভাষা> কিতা খররে, ভালানি? 

শুদ্ধ ভাষা> তুমি/আপনি কেমন আছেন?

চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা>অনে/ তুই কেন আছো-আছন?


সিলেটি ভাষা>অয় ভালা আছি ! 

শুদ্ধ ভাষা> আমি ভালো আছি!

চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> আই ভালা আছি। 


সিলেটি ভাষা> মুই ভালা নায়

শুদ্ধ ভাষা> আমি ভালো নাই
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> আই গঅম নাই



সিলেটি ভাষা> আমি তোমারে ভালা ফাই!

শুদ্ধ ভাষা> আমি তোমাকে ভালোবাসি
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> আই তোয়ারে ভালবাসি


সিলেটি ভাষা> তুমি কিতা আমারে ভালা ফাউ নি!

শুদ্ধ ভাষা> তুমি কি আমাকে ভালবাসো ? 

চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা>  তুই কি অনে ভালবাসো?


সিলেটি ভাষা> খাওয়া দাওয়া শেষ নি?

শুদ্ধ ভাষা> তুমি/আপনি ভাত খেয়েছেন?
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> অনে/তুই ভাত হাইওনা

সিলেটি ভাষা> আপনি খই যাইতা?

শুদ্ধ ভাষা> তুমি/আপনি কোথায় যাবেন?
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> তুই/অনে হন্ডে যর?


সিলেটি ভাষা> আপনার/তোমার/তর বাড়ি খই?

শুদ্ধ ভাষা> তোমার বাড়ি কোথায়?
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা>  তোয়ার বাড়ি হন্ডে?


সিলেটি ভাষা> তুই কিতা কাজ করছ?

শুদ্ধ ভাষা> তুমি কি কাজ করো?
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> তুমি কি কাম গরতে লাইগ?


সিলেটি ভাষা> ও কাজটা কর

শুদ্ধ ভাষা> এই কাজটা করো?
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> এই হাম্মান গড়ে দেও?


সিলেটি ভাষা> তরে ইনতাকি যাইতে কইছি। 

শুদ্ধ ভাষা> তোমাকে এইখান থেকে যেতে বলেছি ।

চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> তোয়ারে এইতুন যাইতামগো হইদি ।


সিলেটি ভাষা> কম মাতিছ

শুদ্ধ ভাষা> কম কথা বলো?
চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা> কথা হম হইছ


আর কিছু শব্দ :

বড় ভাই- বদ্দা

মেঝ ভাই- মাইজ্জে

ছোট ভাই-কুইল্লে

দেবর- দিয়র

ভাসুর-বাইর

শালা-আলা

শালি-আলি

তাউই-তালই

মাউই- মই

বোনের দেবর-তাল ত ভাই

বোনের ননদ-তাল ত বইন

 
আজকে-আজিয়ে
কালকে-হালিয়ে
পরশু-ফ্রুওও
আমার-আর
তোমার-তু আর
সেই-ইতে বা ইবে
কাগজ-হস
কলম-হলম
এলাকা-এলাহা
খারাপ- হারাপ
রাত- রাইত
দিন-দিন
রাস্তা-লাস্তা
ফ্যান-ফানখা
কথা-হথা
হারিকেল-হথা
কাঠাল-হাট্রল


অনেক কষ্ট করিয়া তো পড়ছেন এখন একটু আপনাদের  বিনোদন দিবো , চিটাগং এর আঞ্চলিক ভাষায় কয়েকটা ধাধা বলতেছি,আমাদের সিলেটি ভাষাই ফই বলে, কিন্তু চট্রগ্রামের ভাষায় ধাধাকে কি বলে আমি জানিনা!!!!! 

১।  চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 

মূল প্রবাদঃ ফুয়াদেল্লাই ছাড়িত ন পারির, কেড়ারলাই গিলিত ন পারির।
বাংলা অনুবাদঃ  স্বাদের জন্য ছাড়তে পারছি না, কাঁটার জন্য গিলতে পারছি না। সামঞ্জস্য: জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ।

২। চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 

বাংলা অনুবাদঃ   উইথ অই পরি পরান যার, অতীনে হদ্দে আলুক খার।
বাংলা অনুবাদঃ উপুড় হয়ে পড়ে প্রাণ যায়, সতীনে বলে শালুক (শাপলা ফুল) খায়।

৩। চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 

মূল প্রবাদঃ  হাত পাঁচ চইদ্দ, দুই টিয়া নইদ্দো।
বাংলা অনুবাদঃ সাত পাঁচ চৌদ্দ, দুই টাকা দিয়ো না
মর্মার্থঃ একটু খেয়াল করলে বুঝা যাবে যে সাত আর পাঁচ মিলে বার হয় চৌদ্দ হয় না। ঠগদের কারসাজির একটা উদাহরণ হল এই প্রবাদ।

৪। চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 
মূল প্রবাদঃ  ঘরের গরু ঘাড়ার খের ন হায়।
বাংলা অনুবাদঃ ঘরের গরু সামনের মাঠের ঘাস খায় না।
সামঞ্জস্য ঃ মক্কার মানুষ হজ্জ্ব পায় না।



৫.চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 
 মূল প্রবাদঃ ধাইলে মাছ বড় অই যায়।
বাংলা অনুবাদ ঃ পালিয়ে যাওয়া মাছ বড় হয়ে যায়।
মর্মার্থঃ সুযোগ যেটা হাতছাড়া হয় সেটাকে অনেক বড় বলে মনে হয়।

৬. চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 
মূল প্রবাদঃ পুআর আতথ বিস্কুট দিলে মার মন পায়।
বাংলা অনুবাদঃ ছেলের হাতে বিস্কুট দিলে মা এর মন পাওয়া যায়।
মর্মার্থঃ ছেলের মাকে বশ করতে হলে ছেলের হাতে গিফট দিতে হবে। (পরকীয়া আর কি!)



৭. চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 
মূল প্রবাদঃ হাইল্লে ঠিল্লে বাজে বেশি।
বাংলা অনুবাদঃ খালি কলসি বাজে বেশি।

৮. চট্রগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার ধাঁধা! 
মূল প্রবাদ বাইন্ধে চুলে, পিন্ধে কড়ে যেন মউত অই।

বাংলা অনুবাদঃ বেঁধে রাখা চুলে এবং কাপড় চোপড় ঠিক থাকা অবস্থায় যেন মৃত্যু হয়।

মর্মার্থঃ এটি মূলত বৃদ্ধ বয়সে পরনির্ভরশীলতা থেকে বাঁচার জন্য দোয়া। বর্তমান যুগের একক পরিবারের কারণে বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবারা যে অবহেলার স্বীকার হন সেখান থেকে বাঁচার জন্যই এই দোয়া।



বিশেষ দ্রষ্টব্য: চট্রগ্রামের  আঞ্চলিক  ভাষা আপনাদের কেমন  লাগলো? 
কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিবেন,আর আপনাদের আঞ্চলিক ভাষায় সম্পর্কে লিখতে চাইলে কমেন্ট সেকশনে লিখে পাঠান,আমরা আপনার লেখাগুলো ওয়েবে প্রকাশ করবো । 









Next Post Previous Post
1 Comments
  • Muhammed Juwel Ahmed
    Muhammed Juwel Ahmed 3 July 2024 at 03:16

    Thanks

Add Comment
comment url