অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমার কিছু কথা |
অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমার কিছু কথা,আপনারা জানেন যে আগামী ১৯ মে ২০২৪ ইংরেজি থেকে ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরিক্ষা শুরু হবে,
জানেন তো ফাইনাল ইয়ারে কোনো এক সাবজেক্ট ফেইল করলেই এক ইয়ার লস হবে আপনার । একটা সাবজেক্ট এ ফেইল করলে এই এক সাবজেক্ট এর পরিক্ষা পরে বছর দিবেন, নিজের ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা নিজের আছে ।
তাই আমি আপনাদের বলছি ভালোভাবে প্রস্তুতি নেন, ঠিকমতো পড়েন, সময়কে কাজে লাগান। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে ।
মাত্র এক সপ্তাহ পড়েই পরীক্ষায় ভালো করার উপায় !
অনেকেই আবার বলবেন যে সারা বছর পড়ে ভালো রেজাল্ট করা যায়না,আর মাত্র ৭ দিনেই ভালো রেজাল্ট করা কি সম্ভব?
আসলে ৭ দিনে ভালো কিছু করা সম্ভব যদি নিচের নিয়ম অনুযায়ী পড়েন । তাহলে শুরু করি আজকের আলোচ্যের মূল বিষয় নিয়ে !
• আসলেই মানুষ মাত্রই অলস। আর এই অলস মধ্যেও আমরা কিছু মানুষ আছি আবার দারুণ অলস।আমাদের আলসেমির কারণেই আমরা সারা বছর কোনো পড়াশোনা করতে পারিনি। তবে সামনে পরীক্ষা। যতই আলসেমি করি না কেন,পরীক্ষায় ফেইল করলে তো চলবে না। তাই আজ আমরা জানতে পারবো , মাত্র এক সপ্তাহ পড়েই পরীক্ষায় ভালো করার উপায় সম্পর্কে ।
বন্ধুরা তোমরা যারা এতকাল ঠিকভাবে পড়াশোনা করেন নি, অথচ এখন পরীক্ষায় ভালো করতে চাও?কিন্তু তোমার হাতে আছে মাত্র ১সপ্তাহ বা ৪/৫ দিন সময় । তোমরা দুশ্চিন্তায় আছো যে কিভাবে কী করবে?
কিভাবে পড়াশোনা করলে ভালো ফলাফল হবে।
ইত্যাদি পরিক্ষা সংক্রান্ত আরো অনেক বিষয় নিয়ে নিয়ে ভয়ে আছে,তবে আজকের পোস্ট টা হলো ভয় কে জয় করা, তো প্যারা নিবেন না ঠান্ডা মাথায় লেখাগুলো পড়ো, তাহলে সব বুঝতে পারবে!
তোমরা শুধু নিচের রুলসগুলো ফলো করো। হ্যা,জাস্ট এই এক সপ্তাহ আমার দেওয়া রুলসগুলো ফলো করো।দেখবা এই এক সপ্তাহ পড়েই তুমি নিজের সম্মান রক্ষা করতে পারবে,ইনশাআল্লাহ ।
০১। পড়ার সঠিক সময় নির্বাচন করো:
দেখো,আমাদের শিক্ষকেরা অনেক সময়ই আমাদেরকে পড়ার বিভিন্ন সময় সম্পর্কে বলে থাকেন।তবে আমি আমি সবসময়ই শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বা ব্রেইনের ক্যাফাসিটির উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকি।আমার মনে হয় পড়ার সময় নির্বাচন করার ব্যপারে সকলের ব্যক্তিহৃদয় এবং মস্তিষ্কের কথা অনুসরণ করা উচিৎ। তবে পড়ার জন্য ২টা আদর্শ সময় রয়েছে।
ক.সন্ধ্যা রাত:
সাধারণ মাগরীবের নামাজ তথা সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে রাত ১০/১১টা পর্যন্ত আমাদের ব্রেইন অনেক বেশি সক্রিয় থাকে।এসময় পড়াশোনা করলে তা অধিক ফলপ্রসূ হয় এবং বেশিদিন মনে থাকে।তবে খেয়াল রাখতে হবে পড়ার পরিবেশ যেন শান্ত এবং পড়াশোনার উপযোগী হয়।এক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন সাবজেক্টটিকে প্রথমে, এবং এরপর ক্রমান্বয়ে সহজের দিকে যেতে হবে।কারণ প্রথম দিকে আমাদের ব্রেইনের তথ্য ধারণক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।এ ব্যাপারে জানতে আদর্শ রুটিন তৈরীর উপায় শীর্ষক পোস্টটি পড়ে আসতে পারো।
খ.ভোর রাত:
আমার মতে ভোর রাত হলো পড়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।কারণ এ সময় আমাদের ব্রেইন অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক গুন বেশি সতেজ এবং সক্রিয় থাকে।এ সময় এক ঘন্টা পড়লে অন্য সময় ৩ঘন্টা পড়ার সমান কাজ হয়।সাধারণ ভোর ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সময়কে এই ভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এখন তোমাকে খুজে বের করতে হবে যে,কোন টাইমে তোমার পড়তে ভালো লাগে বা কখন পড়লে তোমার পড়া দ্রুত আত্মস্থ হয়।এরপর সেই সময় অনুযায়ী তোমার রুটিন তৈরী করতে হবে।
০২। রুটিন তৈরী করে পড়তে বসো:
দেখো, পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজ করলে সেটা সফল হওয়ার সম্ভবানা কমে যায়। একারণে পড়তে বসার আগেই তোমাকে একটা আদর্শ রুটিন তৈরী করতে হবে।রুটিনে মিনিমাম পাঁচ ঘন্টা পড়ার টাইম রেখে সেই অনুযায়ী বিষয় সাজাতে হবে।যে সাবজেক্টে তোমার বেশি দূর্বলতা সেই সাবজেক্টের জন্য ৪৫ মিনিট থেকে ১ঘন্টা বরাদ্দ রাখবা।এরপর বাকি বিষয়গুলো সময় গুরুত্ব অনুযায়ী ৩০ মিনিট, ২০মিনিট বা ১৫ মিনিট পড়তে হবে।রুটিন তৈরীর উপায় সম্পর্কে আরও বেচি জানতে এই পোস্ট টি পড়ে আসতে পারো,কীভাবে একটি আদর্শ রুটিন তৈরী করা যায়!
০৩। পড়ার সময় নিজের ফোকাস ধরে রাখো:
আমি আশা করি ইতিমধ্যেই তুমি তোমার সময় নির্বাচন এবং সেই অনুযায়ী রুটিন তৈরী করে ফেলেছো।এখন তোমার কাজ হলো রুটিন অনুযায়ী পড়া শুরু করা।তবে পড়া শুরু করার আগে আর একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে।সেটা হলো নিজের ফোকাস ধরে রাখা।মানে পড়ার সময় যেন তোমার মনোযোগ শুধু বইয়ের দিকে রাখা।সেজন্য যেসব বিষয় তোমার মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায় সেগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।যেমন :পড়তে বসার কিছুক্ষণ আগেই নিজের মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপ বন্ধ করে ফেলতে হবে বা সাইলেন্ট করে রাখতে হবে।অতবা এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে রাখলে ওটা চেক করতে গেলে তোমার কষ্ট হয়।তোমার যদি টিভি দেখার ঝোক থাকে তাহলে পড়তে বসার কমপক্ষে ৩০মিনিট আগে টিভি বন্ধ করতে হবে!মনে রাখবা, একাধারে অনেকক্ষণ টিভি দেখা চোখ এবং ব্রেইন উভয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর।
০৪।লিখার অভ্যাস করো:
এবার আসো লেখার বিষয়ে।যেহেতু আমরা মাত্র এক সপ্তাহ বা ৪/৫দিন পড়েই ভালো রেজাল্ট করতে চাচ্ছি সেজন্য খুব দ্রুতই আমাদের অনেক কিছুই পড়ে তা মনে রাখা লাগবে।এজন্য পড়া বিষয়গুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত জটিল বিষগুলো সাথে সাথে লিখে ফেলতে হবে।কোনো পড়ার পাশাপাশি লিখলে তা অনেকদিন আমাদের মনে থাকে। সেজন্য পড়ার পাশাপাশি লিখার অভ্যাস করতে হবে।
০৫। মূল কনসেপ্ট বুঝে বুঝে পড়ো:
যেহেতু আমাদের হাতে মাত্র এক সপ্তাহ সময় আছে,সেজন্যই মূলত আমরা মাত্র এক সপ্তাহ পড়েই পরীক্ষায় ভালো করার উপায় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়েছি। এজন্য মাত্র এক সপ্তাহে আমরা সম্পূর্ণ বই ভালোভাবে কম্প্লিট করতে পারবনা।সেজন্য আমাদের প্রত্যেকটা সাবজেক্টের প্রতিটি অধ্যায়ের মূল কনসেপ্টগুলো ভালোভাবে বুঝে পড়তে হবে।এবং সেগুলো মনে রাখার মত করেই পড়তে হবে নতুবা আমরা কখনোই ভালো রেজাল্ট করতে পারবনা।
০৬। হাইলাইট করো:
ইতিমধ্যে আমরা কনসেপ্ট বুঝে পড়তে শুরু করেছি।তবে আমাদের হাতে সময় খুবই কম। সেজন্য আমরা একবার পড়ে যাওয়া সবকিছুই আরেকবার পড়ার সুযোগ পাবোনা।সেজন্য পড়তে বসার সময় সাথে একটা হাইলাইটার পেন নিয়ে বসতে হবে।সেটি দিয়ে পড়ার সময় চোখে পড়া সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাইলাইট করে ফেলতে হবে। এতে পরবর্তীতে পরীক্ষার আগের রাতে পড়ার সময় কষ্ট কম হবে।এবং কম সময়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
০৭। সিনিয়র বা সহপাঠীদের কাছ থেকে নোটস জোগাড় করো:
দেখো, আমাদের এই কয়েক দিনের ভিতর এত এত পড়া তারপর আবার নিজের নোটস তৈরী করা সম্ভব নয়।সেক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তোমার সিনিয়র যারা আছে অথবা ক্লাস টপার যারা নোটস তৈরী করেছে তাদের নোটগুলো ফটোকপি করে নেওয়া।এতে তোমার অল্প কিছু টাকা খরচ হলেও সময় বাঁচবে। এই বেঁচে যাওয়া সময় তুমি পড়াশোনার কাজে ব্যয় করতে পারবে।ফলে পরীক্ষা প্রস্তুতি অনেক সহজ হয়ে যাবে।
০৮। প্রশ্ন পরিচর্যা :
পরীক্ষায় ভালো করার জন্য তোমাকে অবশ্যই প্রশ্ন প্যাটার্ন সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে।এজন্য দরকার প্রশ্ন পরিচর্যা। প্রশ্ন পরিচর্যা ০৩টি ধাপে সম্পন্ন করা যায়।যেমন:
ক। বইয়ের প্রশ্ন:
প্রশ্ন পরিচর্যার ১ম ধাপ হলো বইয়ের সব প্রশ্ন আত্মস্থ করে ফেলা।সাম্প্রতিক সৃজনশীল পদ্ধতিতেও আমি দেখেছি পরীক্ষাগুলোতে বই থেকে হুবহু প্রশ্নও থাকে মাঝে মাঝে। কখনো কখনো বইয়ের প্রশ্নের অনুরুপ প্রশ্ন থাকে।কাজেই তোমাকে অবশ্যই বইয়ের সৃজনশীল প্রশ্ন ও পড়ে ফেলতে হবে।
খ। বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন:
বইয়ের সব প্রশ্ন কম্প্লিট হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তোমাকে বিগত বছরের পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখস্থ করে ফেলতে হবে।এতে তোমার প্রশ্ন প্যাটার্ন সম্পর্কে একটা ক্লিয়ার ধারণা জন্মাবে।ফলে প্রস্তুতি আরও সহজ হবে।
গ।স্যাম্পল কোয়েশ্চন :
তোমার যখন বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলন শেষ হবে,এইবার তোমার কাজ হবে গাইড বা মডেল থেকে বেছে বেছে কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন অনুশীলন করা। এতে তোমার পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ আরও সহজ হয়ে যাবে।
উপরের তিনটি ধাপের মাধ্যমে তোমার প্রশ্ন পরিচর্যা সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে।তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন যেকোনো একটা বিষয়ের পিছনে যেন অতিরিক্ত সময় ব্যয় নাহয়।প্রত্যেকটা সাবজেক্টকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।সেজন্য তোমার রুটিনটি সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।কোনো হেলাফেলা করলে চলবে না।
০৯। বারবার রিভিশন দাও:
তোমার সময় নির্বাচন, রুটিন তৈরী এবং প্রশ্ন পরিচর্যা শেষ হলে তোমার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এইবার তোমার কাজ হলো রিভিশন দেওয়া।তোমার রুটিনের শেষ দিনকে অবশ্যই রিভিশনের জন্য রাখতে হবে।সবচেয়ে ভালো হয় প্রতিদিনের রুটিনে যদি রিভিশনের জন্য কিছু মিনিট সময় বরাদ্দ করতে পারো।প্রতিদিনের পড়া বা ২দিনের পড়া যদি একবার অন্তত ১৫ মিনিট সময়ের জন্যও রিভিশন দিতে পারো তাহলে তোমার জন্য ভালো রেজাল্ট করা একদম সহজ হয়ে যাবে।
পরিশেষে,উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করে টানা পড়তে পারলে ভালো রেজাল্ট করা সময়ের ব্যপার মাত্র। তবে এব্যাপারে আমার অনুরোধ থাকবে পরীক্ষার জন্য যেন যার যার ধর্মীয় আদেশ নিষেধ মেনে চলতে ভুল না করো।এবং অন্যদের সাহায্য করতে ভুলবে না।
আমার শেষ কথা:
তোমার বন্ধু/বান্ধাবীরা যাতে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারে সেজন্য তাদের সাথেও এই পোস্ট টি শেয়ার করো । যাতে সেও এই পোস্ট টা পড়ে উপকৃত হয় ।
সময়ব্যয় করে এই পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এটি পড়ে তোমাদের একটুও উপকার হলে তা কমেন্ট সেকশনে তোমার অনুভূতি শেয়ার করো !